পৃথিবীতে এখন সেইসব মানুষের দরকার সবচাইতে বেশি, যারা মানুষের আশা আর স্বপ্নকে জাগিয়ে তুলতে পারে। আপনারাই সেই মানুষ, কারণ আপনারা আগামী দিনের সুন্দর পৃথিবী গড়ার অঙ্গীকার নিয়ে কাজ করছেন। প্রতিদিন সূর্য ওঠার সঙ্গে সঙ্গে, ব্র্যাকের লক্ষাধিক কর্মী জেগে উঠি এইলড়াইয়ে শামিল হবার জন্য।

আই এম ব্র্যাক ২০১৮ বিজয়ী যাঁরা



ভবিষ্যতের জন্য একটি সুন্দর পৃথিবী গড়ার স্বপ্ননিয়ে আমাদের প্রতিটিকর্মীর প্রতিদিনের কাজের মধ্যেই লুকিয়ে আছে অজস্র গল্প। আপনাদের পাঠানো এমন ২৭৪ টি গল্প থেকে নির্বাচন করা হয়েছে ৪ জন বিজয়ী।

এফ.এম ইলিয়াছ হুসাইন

দক্ষিণ সুদান, যেখানকার থাকা-খাওয়া আমাদের দেশের সঙ্গে একেবারেই মেলে না। এই কষ্টের সঙ্গে আরও আছে সাপের ভয়। কিন্তু আমি দমে যাই নি। থেকেছি এবং কাজ করেছি। একবার তো সে দেশের এমন একটি স্থান পরিদর্শনে গিয়েছিলাম যেখানে যাতায়াতের তেমন কোনো রাস্তাই ছিল না। প্লেনে যাতায়াত করতে হতো। সেখানে গিয়ে আমি বৃষ্টির কারণে আটকা পড়েছিলাম। ফিরতে পেরেছিলাম ২২ দিন পর। সে সময় খেয়ে, না-খেয়ে কাটিয়েছি। এইসব প্রত্যন্ত অঞ্চলের অসহায় মানুষদের দেখলে আমার অতীত জীবনের কথা মনে পড়ে যায়। তাই সবসময় সুষ্ঠুভাবে নিজের দায়িত্বপালন করে যেতে চাই। যে কোনো চ্যালেঞ্জ মোকাবেলায় সত্য ও ন্যায়ের পথে চলি। সহকর্মীদের প্রয়োজনে পাশে দাঁড়াই। আমি ব্র্যাকের সঙ্গে আছি, আমিই ব্র্যাক।

সুবর্না লাভলী

বাল্যবিয়ে আমাকে থামিয়ে দিতে পারে নি। আমি লেখাপড়া করেছি। শ্বশুরবাড়ির চোখ রাঙানিতেও আমি ভয় পাই নি, চাকরি ছাড়ি নি। আত্মপ্রত্যয়ে এগিয়ে গিয়েছি স্বপ্নের ঠিকানায়। চাকরিক্ষেত্রে যখনই কোনো সমস্যা হয়েছে, তখনই বিধিনিষেধ মেনে নিজের মতো করে ভাবতে চেয়েছি। মৌলবাদীরা অফিসে হামলা করতে পারে এই শঙ্কায় আমি হরতালের সময় কখনও পায়ে হেঁটে, কখনও রিকশায় শাখা অফিসগুলো পরিদর্শন করেছি। কম্পিউটারের তথ্য সিডিতে করে ব্যাকআপ নিয়ে রেখেছি। এর একটাই উদ্দেশ্য ছিল, যদি কোনো কারণে শাখা হিসাবরক্ষক বা ম্যানেজারের কাছে সংরক্ষিত সিডির ব্যাকআপ হারিয়ে যায় বা পুড়ে যায়, তাহলে আমারটা দিয়ে যেন কাজ করা যায়। ব্র্যাকের চান্দুরা অফিসে হামলাকারীরা আগুন ধরিয়ে দিলে তথ্য উদ্ধার করার জন্য আমার ব্যাকআপ সত্যিই কাজে লেগেছিল। ব্র্যাক আমাকে সাহসী ও পরিশ্রমী হতে শিখিয়েছে। আমি আমার দীর্ঘ কর্মজীবনের অভিজ্ঞতা নারী সহকর্মীদের বলি। তাদের উদ্বুদ্ধ করি। ব্র্যাক পরিবারের সদস্য হতে পেরে আমি গর্বিত।

মোঃ রেজাউল মজিদ

ব্র্যাকের শিক্ষা কর্মসূচিতে সদ্য যোগদান করা চারজন নবীন কর্মীর মধ্যে আমি সবচাইতে ভালো কাজ করব- সেরকম ইচ্ছে থেকেই চলে আসে কাজের মধ্যে প্রতিযোগিতা। যে কোনো চ্যালেঞ্জ মোকাবেলায় সাহসী পদক্ষেপ নিতে তাই আমি কখনও পিছপা হইনি। ব্র্যাকস্কুল পুড়িয়ে ফেলার হুমকি থেকে শুরু করে মেয়েদের প্রশিক্ষণে বাধা দেওয়ার মতো বিষয়গুলো আমি আলোচনার মাধ্যমে সমাধান করতে চেয়েছি। সমাজে যারা এখনও অবহেলিত, তাদেরকেও সুস্থ ও স্বাভাবিক কর্মময় জীবনের আশা দেখিয়েছি। চরম অবহেলার শিকার ২০০ জন হিজড়াকে দক্ষতা উন্নয়ন প্রশিক্ষণের মাধ্যমে দক্ষ করে তোলার ক্ষেত্রে ভূমিকা রেখেছি। অসহায় মানুষের সাফল্য আর তাদের দুঃখ জয়ের খুশির ঝিলিক আমার মনকে নাড়া দিয়ে যায়। দরিদ্র ও প্রান্তিক জনগোষ্ঠীর জন্য সহমর্মী হয়ে আমি কাজ করে যাই।

নাজিমুদ্দিন কায়ামি

২০১৬ সালে ব্র্যাক আফগানিস্তানে আমার দুজন সহকর্মীকে অপহরণ করা হয়েছিল। একটি প্রত্যন্ত প্রদেশে এই ঘটনাটি ঘটেছিল। অপহরণকারীরা মুক্তিপণ হিসেবে অনেক টাকা দাবি করেছিল। আমি তখন ব্র্যাক আফগানিস্তানে প্রাকিউরমেন্ট বিভাগের ভূমি ও সম্পদ অফিসার হিসেবে কর্মরত ছিলাম। অপহরণকারীদের সঙ্গে আলোচনাার জন্য অফিস আমাকে দায়িত্ব দেয়। আমার জন্য সবচাইতে বড়ো চ্যালেঞ্জ ছিল অপহরণকারীদের সঙ্গে আলোচনার বিষয়টি এবং সহকর্মীদেরকে নিরাপদে ফিরিয়ে আনা। অপহরণকারীদের সঙ্গে আলোচনা করার জন্য সেসময় আমাকে আফগানিস্তানের প্রত্যন্ত ও ঝুঁকিপূর্ণ এলাকায় যেতে হয়েছিল। এ কাজ আমি সাফল্যের সঙ্গে করতে পেরেছি। শুধু একজন কর্মী হিসেবে নয় বরং একজন মানুষ হিসেবে ব্র্যাক সবসময় আমার কর্মঅবদানকে মূল্যায়ন করেছে। ব্র্যাকের লক্ষ্য ও উদ্দেশ্যকে সামনে রেখে আমি গত পনেরো বছর ধরে কাজ করে যাচ্ছি। আমি মনে করি ‘আমিই ব্র্যাক’।

যোগাযোগ

ব্র্যাক সেন্টার, ৭৫ মহাখালী, ঢাকা ১২১২।

Tel: ৮৮০-২-৯৮৮১২৬৫

[email protected]